শারিয়া আইনও প্রধানত: মানব রচিত - হাসান মাহমুদ
হানাফী শাফি আইনের প্রতিটি কেতাবে আইন আছে কয়েক হাজার করে। কোরানে প্রত্যক্ষ আইন আছে ৪ / ৫ টা, হাদীসে কত হবে? ২০০ ? ৫০০-ও যদি ধরি তারপরেও হাজার হাজার শারিয়া আইন মানব রচিত। ওগুলো এসেছে তাবারী-সীরাত সহ অজস্র তফসির গ্রন্থ থেকে, অর্থাৎ ফিকাহ ("মানুষের বুঝ") থেকে, ফকীহরা যেভাবে বুঝেছেন তা থেকে। যেহেতু মানুষে মানুষের বুঝ আলাদা, তাই তাঁদের মতামতও আলাদা হতে বাধ্য এবং আমরা সেজন্যই একই বিষয়ে ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক তফসির পাই। কাজেই সেগুলোর ভিত্তিতে আইন বানালে তা মানব-রচিতই বটে। সেজন্যই একই মামলায় বিভিন্ন মাজহাবে বিভিন্ন রায় হয়। যেমন কুমারী বা বিধবা গর্ভবতী হলে মালিকি আইনে চাবুক বা মৃত্যুদন্ড, কিন্তু হানাফী আইনে বেকসুর খালাস কারণ শুধুমাত্র গর্ভধারণকে হানাফী আইন ব্যভিচারের প্রমান হিসেবে ধরেনা। এ বিষয়ে আরো প্রমাণ :- "মাজহাবের বিরুদ্ধে মাজহাব !!" - https://hasanmahmud.com/index.php/articles/islamic-bangla/318-2024-11-25-14-41-55
********************************************
Randomly selected Chapters
(1-) বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, তৃতীয় খণ্ড অধ্যায় ৪০: -
**- আইন আছে ২২টি।
** আইনগুলি বানানো হয়েছে ১০৯ ইসলামি সূত্রের ভিত্তিতে।
**- তাতে কোরানের আয়াত মাত্র ১টি,
**- সহি সিত্তা শূন্য। আর্থাৎ ১০৯টি সূত্রের ১০৮টিই (৯৯%) ইজমা কিয়াস ভিত্তিক মানব-রচিত।
(2-) বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, তৃতীয় খণ্ড অধ্যায় ৪৯:-
**- আইন আছে ৩১টি,
**- আইনগুলি বানানো হয়েছে ১৪১টি ইসলামি সূত্রের ভিত্তিতে।
**- তাতে কোরানের আয়াত মাত্র ২টি,
**- সহি সিত্তার হাদিস ৭টি। অর্থাৎ ১৪১টি সূত্রের ১৩২টিই (৯৩.৬%) ইজমা কিয়াস ভিত্তিক মানবরচিত।
হতে পারে সেটা কোরান হাদিসের উপদেশের ভিত্তিতে। কিন্তু তারপরেও সেগুলো মানব রচিত। উপদেশ অনেক গ্রন্থেই পাওয়া যায়, কবিতাতেও পাওয়া যায়। যেমন নিসা আয়াত ৩৬ – আল্লাহ অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না। কবিও বলেছেন -
মা কুরু ধন জন যৌবন গর্বং, হরতি নিমেষাৎ কালং সর্বং -
ধন-জন-যৌবনের গর্ব করো না - সময় সবকিছু চোখের পলকে হরণ করে নেবে- দক্ষিণ ভারতের কবি শঙ্করাচার্য্যের বই মোহমুদগর।