(1) ইসলাম কি? (2) কোরান কিসের কেতাব? (3) নবী রসুলদের লাইফ মিশন কি ছিল? - হাসান মাহমুদ
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
ঘোষণা দিয়ে কোরান-রসূল লঙ্ঘন করাকে বৈধ করার মারাত্মক সাহস উনারা কোথায় পেলেন? সেই দলিল দেয়া আছে এই নিবন্ধের শেষে লিংকে - "আলেমদের ঐক্যমত" কোরান-রসূল বাতিল করার ক্ষমতা রাখে !"
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনিরের নেতৃত্বে “মুনির কমিশন” মাওলানা মওদুদি সহ দেশের সর্বোচ্চ ডজন খানেক আলেমদের সাথে লম্বা আলোচনা করেছিলেন "ইসলাম কি, মুসলিম কে" ঠিক করতে। ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত রিপোর্টটা ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। মাওলানারা "ইসলাম কি, মুসলিম কে" এই মৌলিক ব্যাপারে একমত তো হতেই পারেন নি বরং পরস্পর-বিরোধী মতামত দিয়েছেন। এটা যথেষ্ট প্রমাণিত যে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিমরা ইসলামকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এতে পারস্পরিক হিংসা এমনকি অজস্র রক্তপাত পর্যন্ত হয়েছে।
(1) ইসলাম কি?
- সংক্ষেপে - “একদিন হজরত জিব্রাইল মানুষের বেশে নবীজীর কাছে এসে বললেন, হে নবী। ইসলাম কাহাকে বলে ?” তিনি বললেন, “ইসলাম হল, তুমি আল্লাহ্’র ইবাদত করবে, কাউকেও শরিক করবে না, নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাতকে দেবে” (সহি বুখারি ও মুসলিম, ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৭৩৩, নোট ১, এবং মিশকাতুল মাসাবিহ্ ১ম খণ্ড পৃষ্ঠা ২৩-২৫, নং ২(১)-এর সূত্রে বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৪৯৮)।
একই প্রমাণ:-
**- হাদিস কুদসি থেকে - আন্ নববীর ফর্টি হাদিস https://www.40hadith.com/40hadith_en.htm
হাদিস ২ (সংক্ষেপে সংশ্লিষ্ট অংশ)
উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: একদিন আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে বসেছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এলেন, যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো; তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউই তাঁকে চিনতাম না। তিনি এসে নবী (সা.)-এর পাশে বসলেন, নিজের হাঁটু নবী (সা.)-এর হাঁটুর সাথে মিলিয়ে এবং হাতের তালু তাঁর উরুর ওপর রেখে বললেন: "হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।" রাসূল (সা.) বললেন: "ইসলাম হলো—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর ঘর (কা’বা)-এর উদ্দেশ্যে হজ পালন করা।" তিনি বললেন: "আপনি ঠিকই বলেছেন।"
.......................... এরপর তিনি চলে গেলেন এবং আমি কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলাম। তারপর তিনি বললেন: "হে উমর, তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?" আমি বললাম: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন জিবরাঈল (আ.)।"
**- বুখারি বাংলা অনুবাদ - আবদুল করিম খান সম্পাদিত হাফেজ আবদুল জলিল, হাদিস ১২। লম্বা হাদিস, সংক্ষেপে:-
“আবদুল্লা কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল বলল “ইয়া রসুলুল্লাহ্ ! আমাদেরকে কয়েকটি স্পষ্ট উপদেশ ও আদেশ নিষেধ দিন যা অনুসরণ করে আমরা বেহেশত লাভের উপযুক্ত হতে পারি"। তিনি বললেন (১) কায়মনোবাক্যে এই অঙ্গীকার ও স্বীকারোক্তি করবে যে একমাত্র আল্লাহ্ই মা’বুদ, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নাই এবং মোহাম্মদ (দঃ) আল্লাহ্’র রসুল, (২) নামাজ উত্তমরূপে আদায় করবে, (৩) জাকাত দেবে, (৪) রমজান মাসে রোজা রাখবে এবং গণিমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দেবে। তিনি তাদেরকে চারিটি বস্তু (পাত্র) ব্যবহার করতে নিষেধ করলেন, এবং বললেন - "এই সব আদেশ নিষেধকে তোমরা ভালোভাবে বুঝে নেবে এবং দেশে গিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেবে।”
এই হলো ইসলাম, বেহেশত লাভের উপযুক্ত, এর মধ্যে না আছে ফতোয়া, না আছে শারিয়া-আইন বা রাষ্ট্র। নবীজী কেন বলেছিলেন যারা অনুপস্থিত তাদের “সকলকে ইহা জানাইয়া দিবে ?” কারণ, ওটাই হল ইসলাম। সমাজ চালানোর জন্য তাঁকে যে-সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল সেগুলোকে কিন্তু তিনি কখনোই বলেননি “সকলকে ইহা জানাইয়া দিবে।” এভাবেই তিনি এ-সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন যে, কোন একসময়ের কোন একসমাজের শাসন-ব্যবস্থা ইসলামি ধর্মবিশ্বাসের অঙ্গ নয়।
এদিক দিয়ে ইসলাম আধ্যাত্মিক ধর্ম। আমি জানি ইসলামের সংজ্ঞা হিসাবে এগুলো ওভার-সিম্ফলিফিকেশন, অতি সরলীকরণ। কিন্তু আপনি ইসলামের যে কাঠামোই বানান না কেন সেটা এই গাইডলাইন মোতাবেকই হতে হবে। সেটাই অক্ষরে অক্ষরে ফলো করেছেন আমাদের ইসলাম প্রচারকেরা। তাঁদের অনেকে যুদ্ধের জয়ী হয়েও মসনদে বসেননি, জনতার কাছে ফিরে এসে ইসলামের বাণী প্রচার করেছেন। মদিনার আগে মক্কার ১৩ বছর নবী (সা) কোনো শাসনকার্য পরিচালনা করেননি। সেই ১৩ বছর তিনি অবশ্যই সম্পূর্ণ নবী ছিলেন। মাত্র কয়েকজন ছাড়া অসংখ্য নবী রসুলদের কেউ শাসনকার্য পরিচালনা করেননি, ওটা নবিত্বের শর্তই নয়।
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
(2) কোরান কিসের কেতাব?
কেতাবের মালিক কেতাবকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন আমরা যেন তার বাইরে না যাই। কোরান এই ১২টি আয়াতে নিজেকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে -:- মহা সুসংবাদ, উপদেশ, নূর, আলোকিত কিতাব, ফয়সালার গ্রন্থ, জিকর, সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব ও উত্তম বাণী। সূত্র - সুরা ছোয়াদ ৬৭ এবং ৮৭, মুজাম্মিল ১৯, মুদাস্সির ৫৪, আশ শুরা ৫২, ইমরাণ ১৮৪, আনাম ৯০, ফুরকান ১, হিজর ৯, হজ্ব ৮, আল্ যুমার ২৩ ও আবাসা ১১।
এর বাইরে কোরান আর কোনও কিছুর কেতাব হিসাবে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করেনি। কেতাবের মালিক কেতাবকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন আমরা যেন তার বাইরে না যাই।
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
(3) নবী রসুলদের লাইফ মিশন কি ছিল?
নবী রসুলের মালিক নবী রসুলের লাইফ মিশনকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, আমরা যেন তার বাইরে না যাই। কোরান ৩৩টি আয়াতে বলেছে নবী রসুলরা শুধুমাত্র :-
**- সুসংবাদ দাতা,
**- ভীতিপ্রদর্শক,
**- উপদেশ দাতা,
**- প্রকাশ্য প্রচারক,
**- বার্তাবাহক,
**- সাক্ষী,
**- সুসংবাদ-দাতা,
**- সতর্ককারী,
**- সত্যমিথ্যার পার্থক্য ঘোষণাকারী। তাঁরা:-
**- শাসক নন,
**- রক্ষক বা হিসাব রক্ষক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ম্যানেজার (কর্মবিধায়ক) নন।
সূত্র সুরা আল আনাম ৪৮, আল গাসিয়াহ ২১ ও ২২, ইউনুস ১০৮, মায়েদাহ্ ৯২ এবং ৯৯, নাহল ৩৫, আশ শুরা ৪৮, হিজর ৮৯, আরাফ ১৮৪, নাহল ৮২, কাহ্ফ ৫৬, আহযাব ৪৫, আল আনাম ১০৭, আল-আহ্ক্বাফ ৯, নিসা ৮০, ১৬৫, বাকারা ১১৯, ২৫৩, আনাম ৫২, ৬৬, রা’দ ৪০, ছোয়াদ ৬৫, ৭০, ফাতির ২৩ ও ২৪, ফুরকান ৫৬, আরাফ ৬১, ৬২, ৬৭, ৬৮, ৭৯ ও ৯৩।
এর বাইরে কোরান আর কোনও কিছু হিসাবে নবী রসুলদেরকে সংজ্ঞায়িত করেনি। হজে¦র মতো ফরজ ইবাদতের ক্ষেত্রেও আল্লাহ সুস্পষ্ট ভাষায় হজরত ইব্রাহীমকে বলেছেন “তোমার দায়িত্ব শুধু ঘোষণা করা, আমার দায়িত্ব দুনিয়াময় পৌঁছানো” বাংলা কোরাণ, মুহিউদ্দিন খান, পৃষ্ঠা ৮৯৯।
মদিনার আগে মক্কার ১৩ বছর নবী (সা) কোনো শাসনকার্য পরিচালনা করেননি। সেই ১৩ বছরও তিনি অবশ্যই আংশিক নবী ছিলেন না, সম্পূর্ণ নবী ছিলেন। সুলায়মান (আঃ) বংশগতভাবে নবী ছিলেন, ইউসুফ (আঃ)-কে মিশরের রাজা সিংহাসন দিয়েছিলেন, এবং হজরত দাউদ (আঃ)-কে বনি ইসরাইলদের রাজা তালুত কন্যা ও রাজ্য দিয়েছিলেন (কাসাসুল আম্বিয়া ২য় খণ্ড)।
অর্থাৎ অসংখ্য নবী রসুলদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন ছাড়া কেউ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা শাসনকার্য পরিচালনা করেননি।কিন্তু তাই বলে তাঁরা কি নবী ছিলেন না? অবশ্যই ছিলেন। অর্থাৎ শাসনকার্য পরিচালনা করা নবিত্বের কোনো শর্তই নয়।
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
ওপরের দলিলগুলো একসাথে করলে আমরা যে ইসলাম পাই সেটা সুফি ইসলামেরর সাথে যায়। যেখানে রাজনীতি, আক্রমণাত্মক যুদ্ধ, ইসলামী রাষ্ট্র এগুলি নেই। সেখানে অমুসলিমদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বাণী আছে।
পক্ষান্তরে মুসলিম বিশ্বে কিছু আলেমরা প্রচার করছেন যার দলিল আমি এই ভিডিওতে দেখিয়েছি, ইসলাম মানেই - "অন্য সব রাষ্ট্র ধ্বংস করে বিশ্ব-ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে: বুখারী + মওদুদী" -
https://www.youtube.com/watch?v=lU5fihZq_Mc&t=1274s
ইসলামের এই আগ্রাসী যুদ্ধভিত্তিক কাঠামো গড়ে উঠেছে হাদিসের ভিত্তিতে যা ইসলাম বিরোধীরা প্রচার করে থাকে। সে হাদিসগুলো এখানে পাওয়া যাবে:- "কুরআনে আক্রমণাত্মক জিহাদ আছে? || Mufti Imran Bashir"- https://www.youtube.com/watch?v=UNBEGxdOW5g
আমাদের উচিত ইসলামের আগ্রাসী সংজ্ঞা বর্জন করে কোরআন ভিত্তিক শান্তি-ব্যাখ্যাতে ফিরে আসা।